বতসোয়ানায় হীরার খনির সন্ধান মেলে ১৯৬৭ সালে, স্বাধীনতার ঠিক এক বছর পর। হীরা ব্যবসার মাধ্যমে বতসোয়ানা বিশ্বের দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোর মধ্যে থেকে আফ্রিকার একটি সফল রাষ্ট্রে পরিণত হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরীক্ষাগারে তৈরি কৃত্রিম হীরা সস্তা হওয়ায় আফ্রিকার প্রাকৃতিক হীরার বাজার এবং বতসোয়ানার কর্মসংস্থানে সম্প্রতি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। খবর এপি।
মানের ভিত্তিতে বতসোয়ানা বিশ্বের শীর্ষ হীরা উৎপাদক এবং পরিমাণে রাশিয়ার পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম। হীরা দেশটির পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এমনকি হীরার ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ স্কুল ও খেলাধুলার স্টেডিয়াম তৈরিতে ব্যবহার হয়।
দেশটির রাজধানীর বাইরে একটি গ্রামে ১৭ বছর ধরে হীরা কাটার ও পলিশ করার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন কিওরাপেটসে কোকো। যে হীরা কোকো এবং হাজার হাজার মানুষ দশকের পর দশক ধরে খুঁজে পলিশ করেছে, তা বতসোয়ানার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সড়ক ও অন্যান্য খাতের উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে।
হীরার মতো শুধু এক ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অর্থনীতি তৈরি করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু বতসোয়ানা আফ্রিকার অনেক দেশের মতো ব্যর্থ না হয়ে এ কৌশলে সফল হয়েছে।
তবে কোকো এক বছর আগে চাকরি হারিয়েছেন। পাশাপাশি আফ্রিকার অনেক খনি শ্রমিকও কাজ হারাচ্ছেন। কারণ চীন ও ভারতে উৎপাদিত কৃত্রিম হীরার ফলে প্রাকৃতিক হীরার বাজার ছোট হয়ে আসছে।
বতসোয়ানা মাইন ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন সভাপতি জোসেফ তসিমাকো বলেছেন, ‘হীরা আমাদের দেশ গড়েছে।’
কিন্তু খাতটি এখন ঝুঁকিতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন এ সংকটে শ্রমিকদের জীবন বিপর্যস্ত না হয়। যারা হীরার খাতে কাজ করে দেশকে এগিয়ে এনেছেন, তাদেরই যেন এখন ক্ষতির মুখে না পড়তে হয়।’
ইউনিয়নটি দেশটির মোট ২৫ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের স্বার্থ ও অধিকারের পক্ষে কাজ করে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ট্রাম্পের অধীনে নতুন মার্কিন শুল্ক বতসোয়ানার অর্থনৈতিক মন্দাকে আরো গুরুতর করতে পারে। ফলে চাকরিতে স্থগিতাদেশ, বেতনহীন ছুটি ও কর্মী ছাঁটাই বাড়তে পারে।’
উল্লেখ্য, বতসোয়ানায় খনন, কাটা ও পলিশ করা হীরার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ কর আরোপ করেছে।
দেশটির হীরা রফতানি থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ বিদেশী আয় এবং সরকারের এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব তৈরি হয়। সম্প্রতি এ আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা। বতসোয়ানার সবচেয়ে বড় হীরা উৎপাদক ডেবসওয়ানার আয় গত বছর অর্ধেক কমেছে।